প্রবাসজীবনের শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না ইউছুফ ফারুকের। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, ভাষার সীমাবদ্ধতা এবং কাজের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে প্রতিটি দিন ছিল নতুন এক পরীক্ষা।
জীবনের এমন কিছু কঠিন সময় এসেছে, যেগুলোর কথা আজও মনে পড়লে বুকের ভেতর হাহাকার জাগে। কখনো কখনো চোখের পানি ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। চারপাশে পরিচিত মানুষ থাকলেও নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করার মতো কাউকে সব সময় পাওয়া যায়নি। কিছু মানুষের অবহেলাও নীরবে সহ্য করতে হয়েছে।
তবু নিজের কষ্ট অন্যকে বুঝতে দিতে চাইতেন না। প্রবাসীদের অনেকের মতো তিনিও জানেন, দূর দেশে নিজের দুঃখের কথা সবাইকে বলা যায় না। পরিবারের মানুষকে ভালো রাখার স্বপ্নে অনেক কষ্ট নিজের ভেতরেই চাপা রাখতে হয়।
নিজের জন্য নয়, এক কোটি প্রবাসীর জন্য ভাবনা
দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে ইউছুফ ফারুকের উপলব্ধি, শুধু নিজের ভালো থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রবাসে থাকা লাখো মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাঁর ভাষায়, “আমি এখন আমাকে নিয়ে কোনো চিন্তা করি না, আমি আমার এক কোটি প্রবাসী নিয়ে চিন্তা করি।”
এই ভাবনা থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি তুলে ধরেছেন তিনি।
প্রবাসীদের কল্যাণে ইউছুফ ফারুকের ১১ দাবি
প্রবাসীদের জীবন আরও নিরাপদ, সহজ ও সম্মানজনক করতে তাঁর প্রস্তাবিত দাবিগুলো হলো—
১. প্রবাসী কার্ড চালু: প্রবাসীদের জন্য ঘোষিত কার্ড দ্রুত বাস্তবায়ন এবং এর মাধ্যমে সরকারি সেবা সহজ করা।
২. মৃত প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা: প্রবাসে কোনো বাংলাদেশি মারা গেলে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।
৩. প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা: দেশে প্রবাসীদের বাড়িতে চুরি, ডাকাতি বা দখলদারির ঘটনা ঘটলে দ্রুত আইনি সহায়তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. দূতাবাসের সেবা কার্যকর করা: বেতন, নিয়োগকর্তা, নির্যাতন ও ভিসাসংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানে দূতাবাসের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা।
৫. বিমানবন্দরে সম্মানজনক সেবা: হয়রানি বন্ধ, বিশেষ সহায়তা ডেস্ক, দ্রুত ইমিগ্রেশন এবং প্রবাসীদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা।
৬. বিমানভাড়া সহনীয় পর্যায়ে আনা: প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ করতে টিকিটের দাম কমানো ও ভাড়ার ওপর কার্যকর নজরদারি করা।
৭. স্থায়ীভাবে দেশে ফেরাদের পুনর্বাসন: ১৫ বছর বা তার বেশি সময় প্রবাসে থাকার পর দেশে ফেরা ব্যক্তিদের এককালীন আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন ঋণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া।
৮. ভিসার খরচ নিয়ন্ত্রণ: ভিসা নবায়ন ও নতুন ভিসার অতিরিক্ত খরচ কমানো এবং দালালচক্র বন্ধে স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করা।
৯. দালালমুক্ত পাসপোর্ট সেবা: স্বল্প খরচে দ্রুত পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
১০. সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা: প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
১১. অসুস্থ প্রবাসীদের সহায়তা: গুরুতর অসুস্থ প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এমএমএস