দূতাবাসে প্রবাসীদের কোন ১০ সেবা পেতে অতিরিক্ত টাকা লাগে না
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়লে অনেক বাংলাদেশি নাগরিকই জানেন না—কোন সমস্যায় বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের সহায়তা নেওয়া যায়, আর কোন সেবার জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি দিতে হয়। ফলে অনেক সময় দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা খরচ করেন প্রবাসীরা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস ও হাইকমিশনের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের জন্য কনস্যুলার ও কল্যাণমূলক বিভিন্ন সেবা রয়েছে। তবে সেবার ধরন ও ফি দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে।
যে ১০ বিষয়ে দূতাবাসের সহায়তা নিতে পারেন
১. বিপদে পড়লে জরুরি কনস্যুলার সহায়তা
বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর সমস্যায় পড়লে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশনে যোগাযোগ করতে পারেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়।
২. আটক বা গ্রেপ্তার হলে যোগাযোগ
কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে আটক বা গ্রেপ্তার হলে দূতাবাসের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্থানীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হতে পারে।
তবে দূতাবাস ব্যক্তিগত আইনজীবীর খরচ বা আদালতের জরিমানা পরিশোধ করে না।
৩. চাকরিতে নির্যাতন বা বেতন আটকে গেলে অভিযোগ
নিয়োগকর্তা বেতন না দিলে, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে কিংবা কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হলে প্রবাসীরা দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে অভিযোগ করতে পারেন।
৪. পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে সহায়তা
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে স্থানীয় পুলিশের রিপোর্টসহ দূতাবাসে যোগাযোগ করে নতুন পাসপোর্ট বা দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্টের বিষয়ে নির্দেশনা নেওয়া যায়।
তবে নতুন পাসপোর্ট বা নির্দিষ্ট ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে। বিভিন্ন মিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ ধরনের ফি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়।
৫. মৃত প্রবাসীর মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহায়তা
বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক মারা গেলে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে দূতাবাস বা হাইকমিশনের সহায়তা নেওয়া যায়।
৬. শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে পরামর্শ
চাকরির চুক্তি, বেতন, কর্মপরিবেশ, নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধসহ বিভিন্ন শ্রম-সংক্রান্ত বিষয়ে দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে।
৭. পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা
কোনো প্রবাসী গুরুতর বিপদে পড়লে বা আটক হলে পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও করণীয় সম্পর্কে জানতে পারেন।
৮. সরকারি সেবা সম্পর্কে তথ্য
পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রাভেল পারমিট, সত্যায়নসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা সম্পর্কে দূতাবাস থেকে নিয়ম ও প্রক্রিয়া জানা যায়। অনেক মিশনের ওয়েবসাইটে এসব সেবার আলাদা তালিকাও রয়েছে।
৯. ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার সংক্রান্ত তথ্য
প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণমূলক বিভিন্ন সেবা ও ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের কার্যক্রম সম্পর্কেও দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট উইং থেকে তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন মিশনে ওয়েজ আর্নার্স মেম্বারশিপ ও কল্যাণমূলক ফরম/সেবা আলাদাভাবে দেওয়া হয়েছে।
১০. জরুরি সময়ে কোথায় যেতে হবে—দিকনির্দেশনা
বিদেশে দুর্ঘটনা, আটক, প্রতারণা, চাকরি হারানো বা অন্য কোনো সংকটে পড়লে কোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, সে বিষয়ে দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নেওয়া যায়।
সব সেবা কি বিনামূল্যে?
না। বিষয়টি প্রবাসীদের বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। দূতাবাসের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া আর কোনো নির্দিষ্ট কনস্যুলার সেবা বিনামূল্যে পাওয়া—দুটি এক বিষয় নয়।
পাসপোর্ট, ট্রাভেল ডকুমেন্ট, সত্যায়নসহ নির্দিষ্ট সেবায় সরকারি ফি থাকতে পারে। যেমন বিভিন্ন বাংলাদেশ মিশনের ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবার জন্য আলাদা ফি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
দালালকে টাকা দেওয়ার আগে যা করবেন
কোনো সেবার জন্য দালাল বা মধ্যস্থতাকারীকে টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, হটলাইন বা কাউন্টার থেকে ফি ও নিয়ম যাচাই করুন।
প্রয়োজনে সরাসরি দূতাবাসের শ্রম উইং বা কনস্যুলার উইংয়ে যোগাযোগ করুন।
প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—বিদেশে বিপদে পড়লে একা থাকবেন না। নিজের দেশের দূতাবাস বা হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
প্রবাসী টিপস: বিদেশ যাওয়ার পর আপনার মোবাইলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশনের জরুরি নম্বর, ঠিকানা ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সংরক্ষণ করে রাখুন।